• Dec10

    Demo

    Posted by RAJAUL ISLAM in

    প্রশ্ন: এক ব্যক্তি এক মেয়েকে এই শর্তে বিবাহ করে যে, (মেয়ের বয়স কম (13 বছর চলছে) হওয়ার কারনে) মেয়েকে 2-3 বছর লালন পালন করে ছেলের হাতে তুলে দিবে । ছেলের বাড়িতে পাঠাবে। কিন্তু বিয়ের 2-3 মাস পর স্বামী তার প্রয়োজন অনুভব করার কারনে এবং সাথে সাথে এ কারনেও যে, ( বিয়ের আগে শশুরালয়ের সাথে এ কথা হয়েছিল যে, বিয়ের পর 4-5 মাসের মধ্যে দেশের বাহিরে তারা যে দেশে থাকে সে দেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। তবে এটা ছেলের পক্ষ থেকে কোন শর্ত ছিল না। মেয়ের পক্ষ থেকেও কোন কথা দেওয়া হয়নি।) ছেলে মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে আসতে চায় এবং মেয়েও আসতে ইচ্ছুক। এদিকে মেয়ে এবং তার বাবা মা যে দেশে থাকে সে দেশের ভিসা স্বাভাবিকভাবে বন্ধ থাকার কারনে যাওয়া যাচ্ছে না। আবার তারাও মেয়েকে 2-3 বছরের মধ্যে দেশে নিয়ে আসতে/পাঠাতে অনিচ্ছুক। আমার প্রথমত জানার বিষয় হল, এমতাবস্হায় ছেলের জন্য মেয়েকে দেশে নিজের কাছে নিয়ে আসতে চাওয়াটা শরীয়তের দৃষ্টিকোন থেকে কতটুকু বিধি সম্মত?? এবং এটা কি স্বামীর অধিকারের অন্তর্ভুক্ত কিনা?? দ্বিতীয়ত জানার বিষয় হল, তাদের শর্ত ( 2-3 বছর লালন পালন করে দিবে )-এর কারনে এই 2-3 বছর স্বামীর অধিকার সমূহ কি মউকূফ থাকবে নাকি বহাল অর্থাৎ জারী থাকবে??? এবং স্ত্রীর ক্ষেত্রে স্বামী নিজের অধিকার সমূহ বাস্তবায়নের কতটুকু অধিকার রাখে??? তৃতীয়ত জানার বিষয় হল, মেয়ের বাবা মা মেয়েকে তার স্বামীর সাথে সপ্তাহে একবার সর্বোচ্চ দুইবার মোবাইলে কথা বলতে দেন। এটা কতটুকু শরীয়ত সম্মত?? প্রকৃতপক্ষে ইসলাম স্বামী স্ত্রীর মাঝে "টেলিফোনে" বা যে কোন উপায়ে যোগাযোগ রক্ষার কতটুকু স্বাধীনতা দিয়ে থাকে??? দয়া করে স্পষ্ট ও বিস্তারিতভাবে জানানোর অনুরোধ রইল। জানিয়ে বাধিত করবেন।


    এক. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু ছেলে-মেয়ের বিবাহ সম্পন্ন হয়ে গেছে তাই তাদের একে অপরের উপর স্বামী-স্ত্রীর হক সাব্যস্ত হয়ে গেছে। সুতরাং স্বামী তার স্ত্রীকে দেশে নিজের কাছে নিয়ে আসতে পারবে। তার এ দাবি শরীয়তসম্মত এবং স্বামীর অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। মেয়ের মাতা-পিতা কর্তৃক ২/৩ বছর লালন-পালন করে দেয়ার কথা থাকলেও মেয়ে যেহেতু স্বামীর কাছে চলে আসতে ইচ্ছুক তাই তারা বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।
    দুই. মেয়ের আব্বা-আম্মা যদি কথা মতো ২/৩ বছর মেয়েকে লালন-পালন করেও তবও উক্ত সময়ে স্ত্রীর উপর স্বামীর হক জারি থাকবে।
    তিন. ইসলাম স্বামী-স্ত্রীকে একে অপরের সাথে যে কোনো উপায়ে যোগাযোগ রক্ষা করার স্বাধীনতা দিয়েছে। তারা একে অপরের সাথে সরাসরি কিংবা মোবাইল ফোনে কথা বলবে। পরস্পরের খোঁজ-খবর নিবে। এতে কোনো বাধা-নিষেধ বা সীমাবদ্ধতা নেই। মাতা-পিতার মৌলিকভাবে তাতে বাধা সৃষ্টির অধিকার নেই। কিন্তু প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মেয়ের মাাতা-পিতা যদি মেয়ের পড়া-শুনা বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে মেয়ের স্বার্থে এরূপ বাধা-নিষেধ আরোপ করে থাকেন সেই ক্ষেত্রে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করে নেয়া চাই।
     রেফারেন্স: রদ্দুল মুহতার ৩/৫৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৫৩; আল মুহিতুল বুরহানী ৪/৬৫; আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু।


  • জামিয়ার সংবাদ


    প্রবন্ধ-নিবন্ধ


    সকল প্রশ্ন উত্তর


    প্রশ্ন করুণ


    আপনার প্রশ্নটি লিখুন এবং আমাদের কাছে পাঠান

    প্রশ্নের উত্তর ১০-১৫ দিনের মধ্যে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। সে পর্যন্ত ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করার অনুরোধ রইল।

    উত্তর দ্রুত পাওয়ার জন্য এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন : Call to contact us : +8801935477080